
সিলেটের বালাগঞ্জে চরম আকারে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলা শহরগুলোতে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। এতে একদিকে তীব্র গরম অপরদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম কষ্টে আছে মানুষ। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত টানা ৭দিন বালাগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এর মধ্যে বালাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ রিফাতপুর, চড় হাড়িয়া, চর সুবিয়া, মানন, গরমলি, হাসামপুর গ্রামসহ উপজেলার অধিকাংশ এলাকার একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা এই ৭দিন একাধারে বিদ্যুতের দেখা না পেয়ে তারা ক্ষুভে ফুঁসেছেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের অফিস পাড়ায় মাঝে মধ্যে ১০-১৫ মিনিট বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার ভেল্কিবাজি ছিল বলে প্রশাসনের কর্মকর্তা জানিয়েছেন।প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলে ইচ্ছে করেই দিনের পর দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজার ও দোকানগুলোতে ২ টাকার মোমবাতি ১০-১৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।৭ দিন বিদ্যুৎবিহীন থাকায় পুকুর বা নদীর পানি খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নবীনগর এলাকার বাসিন্দা সন্তোষ চক্রবর্ত্তী বলেন বালাগঞ্জে বিগত একমাস যাবৎ বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হলে দিনে বা রাতে এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলেও তিন-চার ঘন্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিদ্যুতের এমন বিপর্যয়ে বিগত দিনের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। ধান মাড়াই-ঝাড়াইয়ে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতির অন্যতম বড় ভুক্তভোগী। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বলেন, গত এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। প্রচন্ড গরমের কারণে পড়ার জন্য টেবিলে বসতে কষ্ট হয়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে রাতে ঘুমাতেও পারি না। আরেক এসএসসি পরীক্ষার্থী হাসান বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে লেখাপড়ায় মারত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা চাই, বিদ্যুতের এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক, যাতে আমরা নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারি।এই অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি তীব্র তাপদাহে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে, মানুষজনকে তীব্র কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। রাতের তীব্র গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দিনের তুলনায় রাতে ভয়াবহ লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে তীব্র গরম অপরদিকে রাতের বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম কষ্টে আছেন উপজেলার বাসিন্দারা। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটবাজারগুলোতে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। করাত কল, ধান, আটাসহ মসলা ভাঙার মিলগুলো বন্ধ রয়েছে। বেশি লোকসানে পড়েছেন বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে রক্ষিত ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন বালাগঞ্জ সাব জোনাল অফিসের এজিএম আশরাফ হায়দার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ৭ দিন উপজেলার একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়নি। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন অংশে কাজ করার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সাময়িক বন্ধ থাকে। আর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় রাতে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: সাংবাদিক সারুয়ার হাজারী পলাশ বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : অভিযান সেন্টার, মির্জপুর, বিজয়নগর মোড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যোগাযোগ: ০১৭১৫-২৯০০০০ ই-মেইলঃ ovizan24@gmail.com
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ovizan24.comYou cannot copy content of this page