ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি হিন্দু পরিবারের জমি দখলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক মো. আব্দুল হান্নান। আফজাল নামে এক ব্যক্তি প্রকাশ্য দিবালোকে ওই সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং ধারণকৃত সব ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল উপজেলার কুন্ডা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা এলাকায় ৩৯ শতাংশ বসতভিটার জমি নিয়ে একটি হিন্দু ও একটি মুসলিম পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। অতি সম্প্রতি আদালত ওই বিতর্কিত জমির ওপর তিন মাসের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (স্টে অর্ডার) জারি করেন। তবে নিষেধাজ্ঞা জারির মাত্র এক মাস ১২ দিন পার হতেই হিন্দু পরিবারটির ওপর নির্যাতন ও জমি দখলের চেষ্টা শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
নির্যাতনের খবর পেয়ে সাংবাদিক আব্দুল হান্নান ঘটনাস্থলে যান। তিনি ভুক্তভোগী হিন্দু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। এরপর ঘটনার সত্যতা ও নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের জন্য অপর পক্ষের (মুসলিম পরিবারের) এক ব্যক্তির বক্তব্য ভিডিওতে ধারণ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আফজাল নামের এক ব্যক্তি আকস্মিকভাবে তেড়ে এসে সাংবাদিক হান্নানের হাত থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করেন, ফোন কেড়ে নেওয়ার পর ওই ব্যক্তি তাঁকে অত্যন্ত উগ্র মেজাজে জেরা করতে থাকেন। সেখানে কেন গেছেন, কে তাঁকে পাঠিয়েছে এবং ভিডিও ধারণের অনুমতি কে দিয়েছে—এমন নানা প্রশ্ন তুলে হেনস্তা করা হয়।
সাংবাদিক হান্নান জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন স্কুল শিক্ষক, একজন মাদ্রাসা শিক্ষক এবং তাঁর এক বন্ধুর জোরালো অনুরোধের মুখে বেশ কিছু সময় পর আফজাল মোবাইল ফোনটি ফেরত দিতে বাধ্য হন। তবে ফোন হাতে পেয়ে তিনি দেখতে পান, কুন্ডা এলাকার ঘটনার ধারণকৃত সব গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওচিত্র এবং ফোনে সংরক্ষিত অন্যান্য তথ্য পুরোপুরি মুছে (ডিলিট) ফেলা হয়েছে।
ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিক আব্দুল হান্নান তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “আজকের খবরের শিরোনাম হতে হতো আমাকে। যাক, মহান রব আমাকে রক্ষা করেছেন।”
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিরনগর থানার বর্তমান দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর কৃষ্ণনলাল ঘোষ বলেন, “সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া বা তথ্য মুছে দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করা হয়নি। তাই বিষয়টি আমাদের জানা নেই। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বর্তমানে ছুটিতে আছেন।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: সাংবাদিক সারুয়ার হাজারী পলাশ বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : অভিযান সেন্টার, মির্জপুর, বিজয়নগর মোড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যোগাযোগ: ০১৭১৫-২৯০০০০ ই-মেইলঃ ovizan24@gmail.com
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ovizan24.comYou cannot copy content of this page