মোঃ খোকন নেত্রকোণা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় এক নারীর গোসলের ভিডিও ও বিকৃত অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৫ ও ২৭ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও এখনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী উপজেলার বারহাট্রার বিক্রমশ্যী গ্রামের মোসা. সাবিনা আক্তার (২৮) এবং অভিযুক্ত প্রধান আসামি একই গ্রামের পিতা খাইরুল মিয়ার ছেলে আরাফাত ইসলাম সাঈদ (২৪)।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আসামি তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলছে, বিদেশে পালিয়ে গেলে পুলিশ তাকে আর আটকাতে পারবে না। ভুক্তভোগী সাবিনা আক্তার জানান, “আমি একজন অসহায় নারী। আমার সম্মানহানি করা হয়েছে। আমি চাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং তারা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে। এ বিষয়ে ওই নারী প্রশাসনের জরুরি হস্বক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে, গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত আরাফাত ইসলাম সাঈদের মোবাইল নম্বর (০১৮৬৬-১৫২৯৯৭)-এ যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আসামি পবিত্র ঈদুল আজহার দিন মালয়েশিয়া বা মরিশাসে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য : মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ খ্রি: ২৮ অক্টোবর বিকাল ৪টার সময় এবং ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার সময় অভিযুক্ত আরাফাত ইসলাম সাঈদ ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে দাবি করেন, তার মোবাইলে সাবিনা আক্তারের নগ্ন ছবি সংরক্ষিত রয়েছে। এসব ছবি মুছে ফেলতে হলে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে এবং সীমানা প্রাচীর ছেড়ে দিতে হবে বলেও চাপ প্রয়োগ করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আসামির বাড়িতে গিয়ে তার মা ঝরনা আক্তারকে বিষয়টি জানালে, ঝরনা আক্তারসহ সোনিয়া আক্তার, আরিফ, সজীব ও সৈকত ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ঝরনা আক্তার হুমকি দিয়ে বলেন, তার ছেলের কাছে যদি কোনো অশ্লীল ছবি থেকে থাকে, তবে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে ২৯ অক্টোবর সকালে সাবিনা আক্তার তার ফেসবুক আইডিতে প্রবেশ করে দেখতে পান, তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে। ওই আইডির মাধ্যমে তার গোসলের ভিডিও এবং বিকৃত অশ্লীল ছবি প্রচার করা হচ্ছে । ভুক্তভোগীর দাবি, এ আই ব্যবহার করে তার মুখমণ্ডল অন্য নারীর শরীরে সংযোজন করে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সাবিনা আক্তার ৩০ অক্টোবর বারহাট্টা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, থানা পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরে তিনি ময়মনসিংহের বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য নেত্রকোনা পিবিআইকে নির্দেশ দেন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ৩৩ ধারার বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ধার্য করা হলেও পরবর্তীতে আরও একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক: সাংবাদিক সারুয়ার হাজারী পলাশ বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : অভিযান সেন্টার, মির্জপুর, বিজয়নগর মোড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যোগাযোগ: ০১৭১৫-২৯০০০০ ই-মেইলঃ ovizan24@gmail.com
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ovizan24.comYou cannot copy content of this page