জাহাঙ্গীর আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভিজিএফ ও ভিডাব্লিউবি সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দুর্গন্ধযুক্ত, পঁচা ও জমাট বাঁধা নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিতরণকৃত চালের গুণগত মান যাচাই করে দ্রুত পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয় সূত্র ও উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণের জন্য আনা চালের বস্তা খুলে অনেকেই দুর্গন্ধ, লালচে রঙ, পোকা ও জমাট বাঁধা চাল দেখতে পান। তাদের অভিযোগ, এসব চাল দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং খাবারের অনুপযোগী।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, কয়েকটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে এসব চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং কয়েকটি ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রম এখনও বাকি রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, চালের মান এতটাই নিম্ন যে তা রান্না ও খাওয়ার উপযোগী নয়। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন পঁচা ও নিম্নমানের চাল দেওয়ার চেয়ে না দেওয়াই ভালো ছিল। এসব চাল খেলে উপকারের বদলে মানুষ আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে।”
অভিযোগ রয়েছে, জমাট বাঁধা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল দেখে অনেকে তা গ্রহণ না করেই ফিরে গেছেন। আবার কেউ কেউ চাল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে উপকারভোগীদের জন্য মানসম্মত চাল নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে চম্পকনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “চম্পকনগর ইউনিয়নে যে চাল দেওয়া হচ্ছে, তা খাওয়ার উপযোগী নয়। প্রতিটি বস্তায় পোকা ও নষ্ট চাল রয়েছে। এ ধরনের পঁচা চাল মানুষের উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হবে। আমার ইউনিয়নে এ ধরনের চাল সরবরাহ সঠিক হয়নি। এমন চাল না দেওয়াই ভালো ছিল।”
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, “এই মাসে ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির জন্য যে চাল এসেছে, তার গুণগত মান ভালো নয়। সরকার যেভাবে আমাদের কাছে সরবরাহ করে, আমরা সেভাবেই বিতরণ করি। চালের মান ভালো নয়—এ বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছে এবং চেয়ারম্যানকেও অবহিত করা হয়েছে। আগামী রোববার এসব চাল বিতরণের কথা রয়েছে।”
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার বলেন, “এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি এবং তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। আর যেসব ইউনিয়নে এখনো বিতরণ হয়নি, সেসব ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা চাইলে খাদ্যগুদামে গিয়ে চাল দেখে পরিবর্তন করে নতুন চাল নিয়ে আসতে পারবেন। ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের আগেই খাদ্যগুদামে গিয়ে চাল পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই চাল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: সাংবাদিক সারুয়ার হাজারী পলাশ বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : অভিযান সেন্টার, মির্জপুর, বিজয়নগর মোড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যোগাযোগ: ০১৭১৫-২৯০০০০ ই-মেইলঃ ovizan24@gmail.com
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ovizan24.comYou cannot copy content of this page