কাওছার আহমদ ,স্টাফ রিপোর্টার :
মাধবপুরে ০৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যৌথ আয়োজনে ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সকাল ১১টায় স্মৃতি সৌধ প্রাঙ্গনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ফয়সাল এর সভাপতিত্বে ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাওছার আহমদের সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জ মোছাঃজিলুফা সুলতানা, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ আক্তার হোসেন (বিপিএম-সেবা),একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রামাণ্য চিত্র নির্মাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কায়সার চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ আব্দুজ জাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌড় প্রসাদ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবুল মনসুর, সরকারী পুলিশ সুপার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী, সরকারী কমিশনার ভূমি রাহাত বিন কুতুব, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বেগ,স্থানীয় চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন চৌধুরী, সাবেক বাইস চেয়ারম্যান শ্রীধাম দাশ গুপ্ত, আওয়মী যুবলীগের সভাপতি ফারুক পাঠান, সাংবাদিক আইয়ুব খান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, পঙ্কজ কান্তি দাস ও ওসমান মিয়া প্রমূখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুকোমল রায়। বিশেষ অতিথি একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রামাণ্য চিত্র নির্মাতা বীর মুক্তি যোদ্ধা কায়ছার চৌধুরী বলেন, -"মুক্তিযুদ্ধ অতীতের ঘটনা হলেও তার চেতনা এক চিরন্তন ইতিহাস, এ চেতনাকে রক্ষা করতে হবে সমস্ত ষড়যন্ত্রের হাত থেকে, সমস্ত বিকৃতির হাত থেকে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে একাত্তরের শিখা।" বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ আব্দুজ জাহের বলেন,-"প্রতিরোধ যুদ্ধ আরও আগেই শুরু হয়েছিল, প্রতিরোধ করতে করতে পিছিয়ে এসে ৪ এপ্রিল প্রতিরোধ যোদ্ধারা তেলিয়াপাড়ার এই ব্যাবস্থাপক বাংলোয় মিলিত হয়ে কর্ণেল এম এ জি ওসমানীকে সর্বাধিনায়ক ও মেজর রবকে সহকারী করে দেশকে স্বাধীন করা, রণকৌশল নির্ধারণ,দেশকে প্রথমে ৪টি পরে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে যুদ্ধ পরিচালনার করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে, এখানে উল্লেখ্য যে,পরবর্তীতে মেহেরপুরে যে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়েছিল সেখানেও কর্ণেল এমএজি ওসমানীকে প্রধান আর মেজর রবকে সেকেন্ড -ইন-কমান্ড করা হয়। " বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌড় প্রসাদ রায় বলেন,-" তেলিয়াপড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান স্মৃতি বিজড়িত স্থান। অবশ্যই এটিকে সংরক্ষণ করতে হবে। অবিলম্বে সেখানে রেস্ট হাউজ নির্মাণসহ ঐতিহাসিক বাংলোটিকে মুক্তিযোদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর বানাতে হবে।" প্রধান অতিথি মোছাঃ জিলুফা সুলতানা বলেন, " কতটা সাহসী, কতটা পরিকল্পনাবিদ, কতটা দেশপ্রেমিক হলে এরকম একটি দুর্গম,নির্জন জায়গায় এসে মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে হানাদার মুক্ত করতে সমবেত হয়েছিল। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলে আজকে আমি দেশের কল্যানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। "
এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মৃতি সৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোছাঃ জিলুফা সুলতানা,উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন ইউএনও একেএম ফয়সাল। মুক্তিযোদ্ধা হবিগঞ্জ জেলা ইউনিট ও মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকেও স্মৃতি সৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: সাংবাদিক সারুয়ার হাজারী পলাশ বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : অভিযান সেন্টার, মির্জপুর, বিজয়নগর মোড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যোগাযোগ: ০১৭১৫-২৯০০০০ ই-মেইলঃ ovizan24@gmail.com
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ovizan24.comYou cannot copy content of this page