ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে সাজানো হত্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ , ঘর বাড়িতে হামলা , লুটপাত ও ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ কে কেন্দ্র করে সরাইলের দেওড়া গ্রামে দুই পক্ষের মাঝে মারামারি হয় । এসময় ৭০ বছর বয়স্ক আফরুজ মিয়া অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। পরে জজ মিয়া, মিন্টু মিয়া, হযরত আলী ও রহমত আলী সহ তাদের লোকজন প্রতিপক্ষ কে ফাঁসানোর জন্য উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা মামলা সাজানোর চেষ্টা করেন। রাত থেক সকাল পর্যন্ত প্রতিপক্ষের বাড়ীঘরে হামলা ভাংচুর ও লোটপাট করে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেন।
নিহত আফরোজ মিয়ার লোকজন বলছেন, তিনি মারামারিতে যান নাই এবং অসুস্থ ছিলেন। তাহলে তাকে কে মেরেছেন নাকি নিজের দলের লোকজন মেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন, এ নিয়ে স্থানীয়দের মনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেকে আবার ভয়ে মুখ খুলে কিছু বলতেছে না ।
সরে জমিনে জানা যায়, নিহত আরফুজ মিয়া (৭৫) দেওড়া গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে। তিনি নিঃসন্তান, শেষ বয়সে বৃদ্ধ সহধর্মিনীকে নিয়ে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। শেষ বয়সেও তিনি বাড়ি বাড়ি গার্মেন্টস এর কাপড় বিক্রি করতেন। কোন কোন সময় দূর দেশে ভিক্ষাও করতেন । তার বাড়িতে মোট দুই শতাংশ জায়গায় রয়েছে। অর্ধ শতাংশে নিম্নমানের টায়ার বেষ্টিত কুঁড়েঘরে অর্ধাঙ্গিনীকে নিয়ে বসবাস করতেন। গ্রামবাসী সহযোগিতা চলতেন। ঝগড়ার কোনো পক্ষই সে ছিল না। গত ২৩ নভেম্বর
(রবিবার) ঘটনার দিন খুনের শিকার আরফুজ মিয়া অসুস্থ অবস্থায় আপন করে ঘরে শুয়েছিল। বিকাল ৩টার সময় গ্রামের কালা গোষ্ঠী ও মিন্টু গুষ্টির ঝগড়া বাধলে সরাইল থানার পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে খুনের ঘটনা ঘটিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে প্রায় ২০-৩০ টি পাকা ও কাঁচা ঘরবাড়ি ভাঙচুর সহ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার নগদ টাকা আসবাবপত্র চাউল ডাল লুটপাট করেন। এ দিকে
খুনের প্রকৃত রহস্য গোপন রাখতে বৃদ্ধর সহধর্মিনীকে বিভিন্ন কৌশলে আড়াল করে রেখেছেন।
এ বিষয়ে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী বাংলাদেশের খবরকে জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে । আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘর বাড়ি ভাংচুরের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
উল্লেখ্য : ফরহাদ ও সামসু দুই ভাই, সামসু তার মামার কাছ থেকে ৩০ শতাংশ জায়গা খরিদ করেন। তাদের চাচাতো ভাই সুমনের কাছে উক্ত জায়গা বিক্রি না করায় সুমন জোর করে উক্ত জায়গা দখল করে বিদেশে চলে যায়। পরে সোমনের উস্কানিতে মিন্টু তার দলবল নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: সাংবাদিক সারুয়ার হাজারী পলাশ বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : অভিযান সেন্টার, মির্জপুর, বিজয়নগর মোড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যোগাযোগ: ০১৭১৫-২৯০০০০ ই-মেইলঃ ovizan24@gmail.com
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ovizan24.comYou cannot copy content of this page