আমার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরিক্ষায় ফেইলের হুমকি দিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের পাহাড়পুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিফিইডি শিক্ষক আব্দুল বারি। তিনি বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে এমন ঘোষনা দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের সাথে। বিষয়টি নিমিষেই সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলেও কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিচ্ছেনা উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষক এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন কোচিং বাণিজ্য। ফলে গুরুত্বপূর্ণ পড়াগুলো তার ক্লাসে না পড়িয়ে কোচিং সেন্টারে তা পড়ান এবং কোচিং সেন্টারে কোন শিক্ষার্থী না পড়লে পরিক্ষার উত্তর পত্রে নাম্বার কমিয়ে দেন। তার এমন আচরণে নিম্ম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। তিনি স্কুলের পাশে পরিত্যক্ত দোকান ভাড়া করে ৫-৭ টা বেঞ্চ বিছিয়ে ৩০-৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে প্রতিদিন বিকাল ৪টায় ক্লাসে পর্যাপ্ত পাঠদান না করে কোচিং সেন্টারে ক্লাস করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা গরিব পরিবারের সন্তান প্রয়োজন না থাকলেও বাধ্য হয়ে আমার প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে সাংবাদিক পৌঁছলে দেখা যায়, শিক্ষক আব্দুলবারি তার কোচিং সেন্টারে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের ছুটি দিয়ে তার কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে সাংবাদিককে থুপের মুখে ফেলেন এবং সাংবাদিকের সাথে অশোভন আচরন করেন। এমন আচরন তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকগণ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মামুন ও প্রধান শিক্ষক হরিধন চন্দ্র সরকারকে অবগত করেন।
এ বিষয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিধন চন্দ্র সরকারের নিকট অভিযান ২৪ ডট কম এর প্রতিনিধি জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষক আব্দুলবারীকে কোচিং বাণিজ্য করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলী হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযান ২৪ ডট কমকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আমার কাছে এমন অভিযোগ আসছে। সে স্কুলের পাশে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে পরিত্যক্ত দোকান ভাড়া করে কোচিং সেন্টারে পরিণত করেছেন। এ ছাড়াও এই স্কুলের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম তিনি নজরপুর এলাকায় কোচিং খুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উক্ত বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আল মামুন অভিযান ২৪ ডট কমকে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এমন হওয়া মোটেও কাম্য নয়। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান ২৪ ডেস্ক, বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।