ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় ইটভাটা গিলে খাচ্ছে ফসলি জমির টপ সয়েল। জানা যায়, দালালদের প্রলোভনে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বিক্রির মহা উৎসব চলছে। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অবাধে ভেকু দ্বারা গভীর গর্ত করে মাটি কাটার ফলে ফসলি জমি পুকুরে পরিণত হচ্ছে। এতে যেমন ফসলি জমির আবাদ পড়েছে হুমকির মুখে ঠিক তেমনি হ্রাস পাচ্ছে ফসলি জমি। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটলেও দেখার জেনো কেউ নেই। জমির প্রথম ৮ থেকে ১০ ইঞ্চিকে বলা হয় টপ সয়েল, এখানে থাকে মাটির জৈব পদার্থ। টপ সয়েল কর্তন করা হলে ঐ জমি উর্বরতা শক্তি হারায় এবং দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বুধন্তি, ইসলামপুর, ডালপা, খাদুরাইল ,পাহাড়পুর, জালালপুর, পাইকপাড়া, হাজীপুর, বুল্লা, হরষপুর, চর মনিপুর এলাকার চিত্রিসহ ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অর্থাৎ (টপসয়েল) বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়।
এছাড়াও অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ভূমি অফিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে এসব অপকর্ম। তাই অভিযোগ করলেও মিলেছে না কোন প্রতিকার। তাছাড়া মাটি বাহি মাহিন্দ্র গাড়ি ও ট্রাক্টর চলাচলের জন্য জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। মাটি ভর্তি এসব অবৈধ ট্রাক্টর ট্রলির ভারী চাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কাঁচা পাকা সড়ক। মূলত চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি নানা পরিবহনে রূপান্তরিত হয়ে অদক্ষ ড্রাইভার ও শিশু-কিশোরদের দিয়ে অবাধে এসব যানবাহন বেপরোয়া ভাবে চালানো হচ্ছে। রাস্তায় মাটি ভর্তি একাধিক গাড়ি একটানা চলার কারণে ধুলাবালি ও কানফাটা আওয়াজে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ পথচারীরা।
এলাকার কিছু প্রভাবশালী আইনের তোয়াক্কা না করেই এক্সকেভেটর ও ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি ধ্বংস করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে মাটি বিক্রির রমরমা ব্যবসা। তাছাড়া দালালরা জমির মালিকদের অতিরিক্ত টাকার লোভ দেখিয়ে জমির উপরিভাগের মাটি নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। প্রশাসন তা দেখেও না দেখার ভান করছে।