• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

নেত্রকোনায় সিএনজি চালককে রড দিয়ে পিটিয়ে ৪ দাঁত ও হাত ভাঙল ভাই-ভাতিজা

অভিযান ডেস্ক / ৭৭ Time View
Update : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

​মোঃ খোকন,নেত্রকোণা প্রতিনিধি : 

লোভ মানুষকে কতটা পশুরুপে আবির্ভূত করতে পারে, তার এক জলজন্ত ও নৃশংস প্রমাণ মিলল নেত্রকোনায়। নিজের আপন মেজো ভাই আর ভাতিজা মিলে লোহার রড দিয়ে এক অসহায় সিএনজি চালককে রাস্তার ওপর ফেলে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে । লোহার রডের সেই বর্বরোচিত আঘাতে উপড়ে গেছে চালকের মুখের সামনের ৪টি দাঁত, ভেঙে গেছে হাতের হাড়! বর্তমানে ওই চালক হাসপাতালের বিছানায় অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।

​লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোণা সদরের সাবলম্বী হাসপাতালের সামনে পাকা রাস্তার ওপর। ভুক্তভোগী সিএনজি চালক মোঃ সাইদুল ইসলাম (৪৫) বাদী হয়ে আপন মেজো ভাই মনসুর আলী ও ভাতিজা আনোয়ার হোসেনসহ ৫ জনের নামে নেত্রকোনা মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন ।

​এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আটপাড়া উপজেলার মাদল গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাথে তাঁর মেজো ভাই মনসুর আলীর ফসলি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই নিয়ে এলাকায় বহুবার সালিশ-বৈঠক হলেও মনসুর আলী তার ছেলেরা কোনো আইন বা সমাজের তোয়াক্কাই করত না।

​গত ২ জুন (২০২৬) বিকেলে সাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো সিএনজি চালিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সাবলম্বী হাসপাতালের সামনে আসতেই ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড আর বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়ির গতি রোধ করে।
​গাড়ি থামানো মাত্রই ১ নম্বর আসামী মনসুর আলীর কড়া নির্দেশে তার ছেলে আনোয়ার হোসেন লোহার রড উঁচিয়ে সরাসরি সাইদুলের মাথায় আঘাত করতে যায়। সাইদুল প্রাণ বাঁচাতে মাথা সরালে রডের সেই মরণকামড় এসে লাগে সরাসরি তাঁর মুখে! মুহূর্তের মধ্যে মুখের সামনের সারির ৪টি দাঁত ভেঙে রক্তে ভেসে যায় চারপাশ। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আবারও মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, যা ঠেকাতে গিয়ে তাঁর বাম হাতের আঙুল ও হাড় মটকে যায়। ​এখানেই শেষ নয়, রক্তপিপাসু এই চক্রটি সাইদুলকে যখন পেটাচ্ছিল, তখন নারীরাও (মার্জিয়া, মনি ও ইসরাত) বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর সারা শরীর থেঁতলে দেয়। এই সুযোগে ভাতিজা আনোয়ার হোসেন রক্তাক্ত সাইদুলের পকেট থেকে সিএনজি চালিয়ে জমানো নগদ ২৩,০০০/- (তেইশ হাজার) টাকা ছিনতাই করে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আহত ​সাইদুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং পথচারীরা বাঁচাতে ছুটে এলে, আসামিরা ধারালো উঁচিয়ে সবাইকে হুমকি দিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে— “সুযোগ পাইলে তোকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলব!” ​রক্তাক্ত ও অজ্ঞান প্রায় সাইদুলকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা দ্রুত নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। ডাক্তার জানিয়েছেন তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

​নিজের আপন ভাইয়ের এমন পৈশাচিক আচরণ দেখে স্তম্ভিত এলাকাবাসী।


More News Of This Category

You cannot copy content of this page