ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়া গৃহবধূর এখনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১ মাস ধরে খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নিখোঁজ গৃহবধূর মা সুমি বেগম।
এদিকে, ময়না নিখোঁজ হওয়ার পর সম্প্রতি একটি ভয়েস বার্তা প্রকাশ পেয়েছে। ভয়েস বার্তা প্রকাশের পর ঘটনাটি মোড় নেয় ভিন্ন দিকে।
ময়নার স্বামীর কাছে পাঠানো ভয়েস বার্তায় গৃহবধূ জানায়, ‘আমারে কীভাবে ভুলে থাকতেছো, আমাকে কি বাঁচাইবা না? আমি কোথায় আছি বলতে পারছি না। চারপাশে পাহাড় আর প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। আম্মা (শাশুরি) এবং আপা (স্বামীর ছোট বোন) জানে আমি কোথায় আছি। আমার মোবাইল পপি আপা কোথায় জানি রাখছে। তুমি পপি আপার সাথে কথা বল। এখানে অনেক ঠাণ্ডা।’
জানা গেছে, নিখোঁজ গৃহবধূ খাজিদা আক্তার ময়না বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছতুরপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার মেয়ে। প্রায় ৭ বছর আগে একই উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. রমজান মিয়ার ছেলে সৌদি প্রবাসী রাসেল মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ময়নার। স্বামী প্রবাসে থাকলেও ওই গৃহবধূ তাবাচ্ছুব (০৫) নামে একটি কন্যা সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকতেন। গত ১৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় খাদিজা আক্তার ময়না (২৫) তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও কোনো সন্ধান মেলেনি তার।
ইমুর মাধ্যমে স্ত্রীর পাঠানো ভয়েস বার্তা পেয়ে স্বামী রাসেল মিয়া প্রবাস থেকে সেটি ময়নার বাবার কাছে পাঠিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ময়নাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে জানান বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়নার চাচা মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, আমার ভাতিজি একজন সহজ-সরল মেয়ে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি কি নিখোঁজ নাকি গুম, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
এদিকে, শনিবার সকালে ময়নার শ্বশুর ও শাশুরিকে পুলিশি হেফাজতে আনা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে পুলিশ।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূ নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধারের বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ।