ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সদর ইছাপুরা ইউনিয়নের একটি গ্রাম ডালপা। গ্রামের প্রধান রাস্তাটি যুগ যুগ ধরে কাঁচা থাকায় গ্রামবাসীর কষ্টের শেষ নেই। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় গ্রামটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কত চেয়ারম্যান আসল কেউ কথা দিয়ে কথা রাখেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডালপা গ্রামে হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। গ্রামের লোকজন চলাচলের অনুপযোগী কাঁচা রাস্তা দিয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছে গ্রামবাসী। স্কুলছাত্র কামাল মিয়ার ছেলে ইমরান (১৫) বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তা কাদা হয়ে যায়। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে মাঝে মধ্যে স্কুলে যাওয়া হয় না।’ ওই গ্রামের যুবক ইছহাক মিয়া(৩৫) বলেন, ‘রাস্তা না থাকায় আমরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমার নিজের মোটরসাইকেল থাকলেও গ্রামের বাড়িতে আনতে পারি না। পাশের গ্রামে রেখে পাঁয়ে হেটে বাড়িতে আসতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ কোনো গাড়িই গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি সাইকেল, ভ্যানও চলে না।’আরেক বাসিন্দা আবুল মোঃ নানু মিয়া বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এ গ্রামে কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না। আত্মীয়-স্বজনরাও আসতে চায় না। রাস্তা নিয়ে গ্রামবাসী চরম ভোগান্তির মধ্যে আছে।’
এ বিষয়ে অভিযান এর চেয়ারম্যান, প্রেস ক্লাব বিজয়নগরের সভাপতি ও মাসিক সূর্য শপথ পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক সারুয়ার হাজারী বলেন , এটি আমার নিজ গ্রাম। এ যাবৎ বহু চেয়ারম্যান রাস্তাটি পাকা করণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিন্তু কোন চেয়ারম্যান কথা রাখেনি। একটু বৃষ্টি হলেই বাড়িতে আসা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। এই ‘কাঁচা রাস্তাটি নিয়ে গ্রামবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। আমার জায়গা থেকে রাস্তা পাকাকরণের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। চেয়াম্যানদের নিকট বহুবার গিয়েছি । কোন কাজ হয় নাই। ছোট এই ইউনিয়নের সকল রাস্তা ঘাট পাকা থাকলেও আমরা বঞ্চিত।
এ বিষয়ে উক্ত ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা বিএনপি নেতা এইচ এম জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ডালপা নুরজাহান মার্কেট হতে আনুউদ্দিনের বাড়ি সড়ক ভায়া জেল্লাবাড়ি এবং পশ্চিম দিকে মাতালের বাড়ি পর্যন্ত একহাজার পাঁচশত মিটার সড়ক যার আইডি নম্বর ৪১২১৫৫২৫৬ উন্নয়নের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩ আসনের সাংসদ জননেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যমলের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে । নতুন বরাদ্ধ আসলেই কাজ আরম্ভ হওয়ার সম।বাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। যতদ্রুত সম্ভব স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকা করা হবে।
বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার বলেন, রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।