মোঃ খোকন নেত্রকোণা প্রতিনিধি :
নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় এক যুবককে অপহরণের সময় দুই ভূয়া পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশে খবর দিলে কলমাকান্দা থানার পুলিশ তাদের আটক করেন এবং এসময় তাদের থেকে একটি মোটরসাইকেল ও হাতকড়া জব্দ করা হয়।
অভিযুক্ত ওই দুজন পার্শ্ববর্তী বারহাট্টা উপজেলা থেকে এক যুবককে পুলিশ পরিচয়ে তুলে এনে কলমাকান্দায় আটকে রেখেছিল বলে জানাযায় ভুক্তভোগী যুবক ও এলাকাবাসীর বরাতে। এ সময় অপহৃত ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন নেত্রকোণা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণা গ্রামের মো. সিজন মিয়া (৩৫) ও মো. সুজাত মিয়া (৩৩)।
এদিকে উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম সোহরাব হোসেন (২৮)। তিনি বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. ওয়ারেছ আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৭ জুন) সকালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়ন এলাকা থেকে সোহরাব হোসেনকে তুলে নিয়ে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের আমবাড়ী এলাকায় আসে। তাদের আচরণ ও পরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়।
পরে দুপুরের দিকে স্থানীয় জনতা মো. সিজন মিয়া ও মো. সুজাত মিয়াকে এবং তাদের সঙ্গে থাকা সোহরাব হোসেনকে আটক করে কলমাকান্দা থানা পুলিশকে খবর দেয়। তবে এ সময় পুলিশ পরিচয়দানকারী আরও কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয়দের উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমবাড়ী বাজার এলাকা থেকে আটক দুই ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং সোহরাব হোসেনকে উদ্ধার করে।
পুলিশ জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একজোড়া হাতকড়া জব্দ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ প্রকাশের আগপর্যন্ত আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এসময় অপহৃত বারহাট্টা উপজেলার সোহরাব হোসেন নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি হাতকড়া জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।