• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
Headline
চুনারুঘাটে উদ্ধার লজ্জাবতী বানর, সাতছড়ি বনে অবমুক্ত সিলেট থেকে সরাসরি হজ্জ ফ্লাইটের উদ্বোধন করলেন বানিজ্যমন্ত্রী হবিগঞ্জে পাট চাষে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি বিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে দুই পাচারকারী সহ দেড় কোটি টাকা মূল্যের মালামাল ও যানবাহন জব্দ। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিলেটে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, পরিকল্পনা লন্ডনে দেশব্যাপী একযোগে “নতুন কুড়ি স্পোর্টস”-এর শুভ উদ্বোধন অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভনে ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ বিজয়নগরে রাস্তার বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই দ্রুত সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ৬ লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছেন এমপি ফয়সল

হবিগঞ্জে পাট চাষে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

Reporter Name / ৪ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

হীরেশ ভট্টাচার্য হিরো, স্টাফরিপোর্টার :

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন, জগদীশপুর, বহরা, ধর্মঘর, নোয়াপাড়া, বাঘাসুরা ও বুল্লা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় এ বছর দোআঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে পাটের ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে পাটের আশানুরূপ উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন কৃষকেরা।
মাঠজুড়ে সবুজ পাটগাছের সমারোহ এখন কৃষকদের নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকরা আগের বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তারা বেশ আশাবাদী।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাধবপুরে ৩৬০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ হওয়ায় উৎপাদনও বেড়েছে। কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নতমানের বীজ এবং নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষি অফিসের মনিটরিং ও পরামর্শ দেওয়ার ফলে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বুল্লা ইউনিয়নের কৃষক বাছির মিয়া মোল্লা বলেন, “এবার পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। খরচও তুলনামূলক কম হয়েছে। এখন শুধু বাজারে ভালো দাম পেলেই আমরা লাভবান হবো।”

ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমূলঘর গ্রামের কৃষক করিম মিয়া বলেন, ধানের চেয়ে এবার পাটে লাভের সম্ভাবনা বেশি দেখছি। রোগবালাই কম থাকায় অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার করতে হয়নি। তাই আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে ছয় মন পাট ঘরে তোলা সম্ভব হয়। বাজারে ভালো দাম পেলে প্রতি মণে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, “পাট বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে পাট চাষ আরও বাড়বে।”

স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পাটের দাম এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। তবে মান ভালো হলে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পাটের সঠিক বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
মধ্য স্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি বিক্রির সুযোগ বাড়ানো গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ফসল হিসেবে পাটের চাহিদা বাড়ায় এ খাতের সম্ভাবনাও দিন দিন উজ্জ্বল হচ্ছে।


More News Of This Category

You cannot copy content of this page