ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম স্মরণ না করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ফাতেমার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ফাতেমা।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ইউএনও নাহিদ ফাতেমা স্বাধীনতার ইতিহাস ও বীর শহীদদের অবদানের কথা উল্লেখ করলেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ করেননি। বিষয়টি নজরে আসার পর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজয়নগর উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কড়া সমালোচনা শুরু করেন।
উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, “জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার অন্যতম ঘোষক এবং রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবসের অনুষ্ঠানে তার নাম বাদ দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি ইতিহাস বিকৃতির শামিল। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, যা কাম্য নয়।”
অনুরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, “স্বাধীনতার ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। কুচকাওয়াজের মতো অনুষ্ঠানে যেখানে ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিল, সেখানে সঠিক ইতিহাস তুলে না ধরে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন।”
এই ঘটনায় উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা ইউএনও নাহিদ ফাতেমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিবাদী বক্তব্য দিচ্ছেন এবং এর নিন্দা জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতীয় সংহতি ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করে।
এ রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ ফাতেমা অনুষ্ঠানের সূচি দ্রুত পরিবর্তন করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।
তবে এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ফাতেমার পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।