• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
Headline
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পূর্ব শত্রুতার জেড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; বিজয়নগরে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে বিল্লাল মেম্বারের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা বয়লার পরিচালকদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সনদ বাতিলের চক্রান্ত: মিরপুরে মানববন্ধনে রক্তক্ষয়ী হামলা, আহত একাধিক নাসিরনগরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ নাভিশ্বাস দুই বছরেও সংস্কার হয়নি। শাবিপ্রবির ‘চেতনা ৭১ বিজয়নগরে ‘দিশা’ এনজিওর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি ভবনের ছাদে সোলার স্থাপনে দপ্তর প্রধানদের নিয়ে মতবিনিময় বিএনপি সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী: এস এম ফয়সল পত্তন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মুফতি রহমত উল্লাহ কাসেমী চুনারুঘাট সীমান্তে ১৩০ বোতল ভারতীয় মদ ও ৮২ কেজি রসুন জব্দ

ঈদকে ঘিরে হামের সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

অভিযান ডেস্ক / ২৫৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

শুভ্র ভট্টাচার্য সিলেট প্রতিনিধ :

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষ ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলো ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে যাচ্ছে ছোট্ট শিশুরাও। এটি হাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে এই সাময়িক ‘জন স্থানান্তর’ হাম আক্রান্তের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি করতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলেও এখনো হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমছে না। বরং দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্যমতে, টিকা নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু বাংলাদেশে এবার টিকাদানের দেড় মাস পার হলেও এখনো আগের মতোই আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা বেশ উদ্বেগজনক।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিক এ পরিস্থিতিতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে শিশুদের আইসোলেশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। কারণ, শিশুর শরীরে র‍্যাশ ওঠার চার দিন আগ থেকেই অন্যদের মধ্যে হাম ছড়াতে পারে।একজন আক্রান্ত শিশু সর্বোচ্চ ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে।সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ঈদের সময় জনস্বার্থে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া যেত, কিন্তু তারা তা দেয়নি। ঈদকে কেন্দ্র করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকি প্রবল।তিনি আরও বলেন, কোনো শিশুর হাম দেখা দেওয়ার চার দিন আগ থেকেই সে অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। তাই যাতায়াতের সময় বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তিনি বলছেন, ঈদের ছুটিতে দুভাবে হাম ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রথমত, কোনো পরিবার এমন এলাকায় যেতে পারে, যেটি ইতিমধ্যে হামের ‘হটস্পট’। সেখানে গিয়ে সুস্থ শিশুও আক্রান্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত শিশু যদি লক্ষণ নিয়েই ভ্রমণ করে, তাহলে পথে বা গন্তব্যে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।বে-নজির আহমদ বলেন, ঢাকার বাইরে হামের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা খুব দুর্বল। ইতিমধ্যে সেটি প্রমাণ হয়ে গেছে। ফলে কোনো শিশু যদি প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে আক্রান্ত হয়, তাহলে পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে উঠতে পারে।’ বে-নজির আহমদের পরামর্শ, খুব প্রয়োজন না হলে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে এবার দীর্ঘ ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশে হামের সংক্রমণ শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তিনি বলেন, শিশুদের নিয়ে যাতায়াত ও স্থান পরিবর্তনের ফলে সুস্থ সুস্থ শিশু অসুস্থ শিশুদের মাধ্যমে এবং অসুস্থ শিশু সুস্থ শিশুদের মাধ্যমে আক্রান্ত হবে। এর ফল আমরা আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে দেখতে পারব। এতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর বর্তমান পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বলেন, যেভাবে সারা দেশে হামের বিস্তার ঘটেছে, তাতে ঈদের ছুটির পর সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে নজরুল ইসলাম বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং এটি মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। যে শিশু এখনো আক্রান্ত হয়নি, সে যদি এমন এলাকায় যায়, যেখানে আগে থেকেই হাম ছড়িয়ে আছে, তাহলে আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এসে সে-ও সংক্রমিত হতে পারে ঈদযাত্রার সময় গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড় থাকে। সেটাও ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেখালেন এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, বাস, লঞ্চ বা ট্রেনে যদি আক্রান্ত শিশু থাকে, তাহলে সেখানে অন্য শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আছে যেন কোথাও গণজমায়েত না হয়। তারপরও সেটি যথাযথভাবে পালন হচ্ছে না। আমরা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ঈদকেন্দ্রিক কিছু নির্দেশনা দিয়েছি, তবে জনস্বার্থে এখনো কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি। এটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ। ঈদকে ঘিরে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে কি না, এমন জবাবে তিনি বলেন, আশঙ্কা তো আছেই। যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে, তাদের যেন বাইরে না নেওয়া হয় সেজন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ রইল। আমাদের আউটব্রেক কিছুটা কমেছে। তবে গত কয়েকদিন ধরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার একই অবস্থায় রয়েছে। টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারীর মতে, টিকার কার্যকারিতা শিশুর বয়স, পুষ্টি ও মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির ওপর নির্ভর করে। শিশুর বয়স যত কম, টিকার কার্যকারিতা তত কম। এবারের বিশেষ কর্মসূচিতে ছয় মাস বয়স থেকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ছয় মাস বয়সে টিকা দিলে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া যায়। ৯ মাস বয়সে দিলে তা প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং ১৫ মাস বয়সে প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যকর হয়।


More News Of This Category

You cannot copy content of this page