
আলমগীর হোসেন, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা আমতলী বাজারে পরিচালিত ‘দিশা’ এনজিওর একটি শাখার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, হিসাবের গরমিল, সঞ্চয় ফেরত দিতে টালবাহানা এবং ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে গ্রাহক হয়রানির এমন ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করার পরও পরবর্তীতে তাদের বকেয়া দেখানো হচ্ছে। আবার কেউ নিজের গচ্ছিত সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছে। এমনকি সদস্যপদ বাতিল বা হিসাব বন্ধ করতে গেলে উল্টো গ্রাহকদের কাছ থেকেই অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন শাখার কর্মকর্তারা।
কোনো কোনো গ্রাহকের কিস্তির বইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকার পরও সেই টাকা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ডাটাবেজে জমা না দেখিয়ে, সুকৌশলে অন্য গ্রাহকের ঋণের কিস্তি পরিশোধে সমন্বয় (অ্যাডজাস্ট) করা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতি ঢাকতে কিস্তি বইয়ের ভেতরের পাতাগুলো পর্যন্ত পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে।
চান্দুরা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়া জানান, তার স্ত্রী তানজিনা বেগম ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর দিশার আমতলী শাখায় একটি ডিপিএস হিসাব খোলেন। কিস্তির বইয়ে কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ মোট ৩০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হলেও তা কম্পিউটারে জমা না করে অন্য একজনের ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে জানানো হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত ও তার নামে মামলা হয়েছে। তবে গ্রাহকের টাকা ফেরত না দিয়ে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী স্বামী-স্পত্রীর মধ্যেও পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। সাতগাঁও গ্রামের শিরিনা বেগম জানান, তিনি প্রায় সাত মাস আগে তার সমস্ত ঋণের টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপর নিজের জমানো সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে ব্যাংক থেকে উল্টো আরও একটি কিস্তির টাকা দাবি করা হয়। টাকা ফেরত পেতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এনজিওর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কালিসীমা গ্রামের হৃদয় খাঁ জানান, তিনি ৫ লাখ টাকা ঋণের অবশিষ্ট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করে ১০ লাখ টাকা নতুন ঋণের আবেদন করেন। ঋণ পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে আরও ৮০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দেন। কয়েক মাস পর ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তার ওই ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও তাকে নতুন ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করা হয়। উল্টো হিসাব থেকে নাম বাদ দিতে চাইলে শাখার ম্যানেজার তার কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনেককে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রাখা হয়। আবার কিস্তি পরিশোধের পরও হিসাব নিয়ে জটিলতা তৈরি করে গ্রাহকদের বকেয়া খাদক সাজানো হয় এবং টাকা পরিশোধ না করলে মামলা করার ভয়ভীতি দেখানো হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো গ্রাহকের টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আটকে রাখা হয়ে থাকলে তা দ্রুত ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে দিশা এনজিওর প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে, তারা বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জোনাল ম্যানেজার পীযূষ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। জোনাল ম্যানেজার জানান, “অভিযোগকারী গ্রাহকদের নামের তালিকা পেলে বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Views: 5