হীরেশ ভট্টাচার্য হিরো, স্টাফ রিপোর্টার
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।বক্তব্যের শুরুতেই এমপি ফয়সল তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চা শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, চা শ্রমিকরা যুগের পর যুগ এই দেশে বংশ পরম্পরায় বসবাস করলেও আজও তারা তাদের ন্যায্য ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত। ভূমির মালিকানা না থাকায় তারা বিশুদ্ধ পানি, মানসম্মত শিক্ষা ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকারগুলো থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে তাদের বের করে আনতে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি জানান, মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় দুটি সরকারি হাসপাতাল থাকলেও সেখানে অ্যাম্বুলেন্স, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসকের চরম সংকট রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় ৫০টিরও বেশি রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে এসব কারখানার গুরুত্ব বিবেচনায় সেখানে নিরাপদ ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘শিল্প পুলিশ’ নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে এমপি ফয়সল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের নতুন গতি পেয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের এই প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিক হবে।
সংসদ সদস্যের এই সাহসী বক্তব্যে চা বাগান এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিয়ে সংসদে এভাবে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। আমাদের সংসদ সদস্য বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরায় আমরা নতুন করে আশার আলো দেখছি। এটি বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান আমূল বদলে যাবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা হলে তারা স্থায়ীভাবে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হবে।