• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
Headline
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পূর্ব শত্রুতার জেড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; বিজয়নগরে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে বিল্লাল মেম্বারের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা বয়লার পরিচালকদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সনদ বাতিলের চক্রান্ত: মিরপুরে মানববন্ধনে রক্তক্ষয়ী হামলা, আহত একাধিক নাসিরনগরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ নাভিশ্বাস দুই বছরেও সংস্কার হয়নি। শাবিপ্রবির ‘চেতনা ৭১ বিজয়নগরে ‘দিশা’ এনজিওর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি ভবনের ছাদে সোলার স্থাপনে দপ্তর প্রধানদের নিয়ে মতবিনিময় বিএনপি সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী: এস এম ফয়সল পত্তন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মুফতি রহমত উল্লাহ কাসেমী চুনারুঘাট সীমান্তে ১৩০ বোতল ভারতীয় মদ ও ৮২ কেজি রসুন জব্দ

পাহাড়ি ঢলে সুরমা চা বাগানের সেতু-সড়ক লন্ডভন্ড, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

হীরেশ ভট্টাচার্য্য হিরো, ষ্টাফ রিপোর্টার :  / ৩২০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

হীরেশ ভট্টাচার্য্য হিরো, ষ্টাফ রিপোর্টার : 

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগান এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রবল বৃষ্টির পানির তোড়ে চা বাগানের ভেতরের ছড়া, পাহাড়ি পথ, ছোট-বড় সেতু, কালভার্ট ও পুরাতন সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। এতে চা শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হলে সুরমা চা বাগানের বিভিন্ন এলাকায় মাটি ধস শুরু হয়। বালুমিশ্রিত দোঁআশ মাটি ধসে বাগানের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়ার পাড় ভেঙে পড়ে। সাতছড়ি ছড়া থেকে ১০ নম্বর মালডুবা এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃর্ণ অংশ ছড়ার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চা বাগানের ভেতরের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি চা গাছ ও আবাদি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে মাহঝিল এলাকার ছোট সেতুটি ধসে পড়েছে। ফলে ওই এলাকার মানুষজনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বিকল্পভাবে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া সুরমা চা বাগানের তিন বাংলার সামনে থাকা আরও দুটি ছোট সেতুও ভেঙে গেছে। এতে বাগানের শ্রমিকদের দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। এদিকে ২০ নম্বর এলাকায় যাওয়ার পথে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর সংযোগ সড়ক পাহাড়ি ঢলে ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ চলছিল এবং সম্প্রতি কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। স্থানীয়দের আশা ছিল, খুব শিগগিরই সেতুটি চালু হবে। কিন্তু আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় পুরো প্রকল্পটি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ২০ নম্বর গ্রামের বাসিন্দা টিংকু সাঁওতাল বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে খুব ধীরগতিতে সেতুর কাজ হচ্ছিল। শুনেছিলাম এক মাসের মধ্যে এটি চালু হবে। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে সংযোগ অংশ ভেঙে বিশাল গর্ত হয়ে গেছে। এখন নতুন করে মেরামত করতে হবে।” সুরমা চা বাগানের বাসিন্দা বিশ্বনাথ তাতী বলেন, “এবারের পাহাড়ি ঢলে সাতছড়ি টিপড়া বসতি সেতু, মাহঝিল ছোট কালভার্টসহ বাগানের অন্তত চারটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় চা বাগানের জমি ভেঙে গেছে। পাহাড় ধসে বালুর চর জেগে পানি অন্যদিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছে।”


তিনি আরও বলেন, “রামগঙ্গা-ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের বিভিন্ন অংশও ভেঙে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।” সুরমা চা বাগানের ম্যানেজার বাবুল সরকার বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।


More News Of This Category

You cannot copy content of this page