• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
Headline
তরী বাংলাদেশ বিজয়নগর শাখার উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত মাদারীপুরে ৬০৭ পিস ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার দুই মাদক ব্যবসায়ী মিশন গ্রিন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত মাধবপুরে ঝুঁ’কিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা, আ’তঙ্কে রোগী ও স্বজনরা মাধবপুরে চোলাই মদে সোহাগা, চা বাগানে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা পাওনা টাকা নিয়ে সালিশে রণক্ষেত্র, দুই দিনের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক নগরে পুলিশের অভিযানে এক মাসে গ্রেপ্তার ১৬৬৫ মাদকদ্রব্য ও অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের ঝু ল ন্ত লাশ উদ্ধার ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরা ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী, ছিনতাইকারী গ্রেফতার তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৬ জন কারাগারে

মাধবপুরে ঝুঁ’কিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা, আ’তঙ্কে রোগী ও স্বজনরা

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

 হীরেশ ভট্টাচার্য হিরো : 

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সেখানেই চলছে চিকিৎসাসেবা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়া এবং রড বেরিয়ে আসায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন রোগী, স্বজন ও চিকিৎসাকর্মীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড এখনও পুরোনো ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে আছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে রোগীদের শয্যা ভিজে যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে এক কর্মচারীকে হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে।

 

হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঝুঁকি জেনেও রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কর্মরত এক নার্স বলেন, রাতে ডিউটির সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। ছাদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ।

এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। মাধবপুরের রহিম মিয়া নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, রাতে পলেস্তারা খসে পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়।

আলেয়া বেগম নামে রোগীর আরেক স্বজন জানান, চিকিৎসার চেয়ে দুর্ঘটনার ভয়ই বেশি কাজ করে।

একসময় ৩১ শয্যার হাসপাতালটি বর্তমানে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও অবকাঠামোগত সংকট ও জনবল ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে পুরোনো ভবনের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ৩১টি এবং নতুন ভবনের শিশু ওয়ার্ডে ১৯টি শয্যা চালু রয়েছে। নতুন ভবনে চিকিৎসকদের কক্ষ, টিকাদান কেন্দ্র ও অপারেশন থিয়েটার থাকলেও পুরো সেবা সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪৫টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ৩০ জন নার্সের বিপরীতে রয়েছেন ২৬ জন। ১৫ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর স্থলে আছেন মাত্র ৫ জন। এর মধ্যে একজনকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মাধবপুর উপজেলার পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও বিজয়নগর উপজেলার মানুষও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ২৬ কিলোমিটার অংশ এ উপজেলার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার রোগী হাসপাতালে আসে। এছাড়াও শিল্পকারখানা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে একটি ট্রমা সেন্টার স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান বলেন, পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি জানান, বাজেট সংকটের কারণে এখনো কাজ শুরু হয়নি। তবে জুনের পর মেরামতের কাজ শুরু হতে পারে। বর্তমানে এক্স-রে বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোনো ভবনেই চলছে।


More News Of This Category

You cannot copy content of this page