মোঃ খোকন নেত্রকোণা প্রতিনিধি
নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুন্না (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় গতকাল রোববার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মু্ন্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত মুন্না উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের রানা হিজল গ্রামের শহিদ আলমের (ছোট্টন) ছেলে। মুন্না মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর এলাকায় একটি দোকানে কাজ করেন বলে জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। শিশুটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র, কোনো সহায়-সম্পত্তি না থাকায় তারা গ্রামে অন্যের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। গত ১২ জুন রাত ১০ ঘটিকার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়।এ সময় পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা প্রতিবেশী মুন্না শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে-হেঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে মুন্না শিশুটির মুখ, হাত ও পা গামছা দিয়ে বেঁধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ধারালো ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয় । ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি কিন্তু ধর্ষণের ফলে শুরু হওয়া রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় গতকাল রোববার শিশুটি তার ফুফুকে বিষয়টি খুলে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুর বাবাকে বিষয়টি অবগত করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানার পর শিশুর বাবা ও ফুফু অভিযুক্ত মুন্নার বাবার কাছে বিচার চাইতে যান। অভিযুক্তের বাবা ঘটনাটি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চরম ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি দেন। পরে গতকাল রাতেই এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মুন্নার বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পওয়ায় রাতেই মামলা গ্রহণ করেন পুলিশ। মামলার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় মুন্না। তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন: অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় থানায় ইতিমধ্যে মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আজ সোমবার সকালে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও এ বিষয়ে সকল আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি বলেন । এসময় ওসি আরও বলেন: অভিযুক্ত মুন্না পালিয়েছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান রয়েছে।