• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
Headline
নেত্রকোণায় মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা: অভিযুক্ত সেই শিক্ষক গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ বান্দরবানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  নেত্রকোণায়  কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা,ঘটনার পেছনের ঘটনা জওয়াইপ্রু সভাপতি,ক্লেমেট সম্পাদক ও কিরন জ্যোতি সংগঠনিক পদে নির্বাচিত বিজয়নগরে সাজেদা ফাউন্ডেশন এন‌জিওর বিরুদ্ধে সদস্য হয়রানীর অভিযোগ । নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে চলছে জেলা পরিষদের একাধিক ভবনের বাস্তবাযন কাজ চুনারুঘাটে উদ্ধার লজ্জাবতী বানর, সাতছড়ি বনে অবমুক্ত সিলেট থেকে সরাসরি হজ্জ ফ্লাইটের উদ্বোধন করলেন বানিজ্যমন্ত্রী হবিগঞ্জে পাট চাষে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

 নেত্রকোণায়  কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা,ঘটনার পেছনের ঘটনা

মোঃ খোকন নেত্রকোণা প্রতিনিধি:  / ৭ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

মোঃ খোকন নেত্রকোণা প্রতিনিধি: 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে সরব নেটিজেনরা। নেত্রকোণায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় শিশুটি বর্তমানে প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

নেত্রকোণার মদন উপজেলার পাছহার গ্রামে একটি মাদ্রাসার ১২ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে। জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ঘটনাটি ঘটে। দীর্ঘদিন ভয়ভীতি, লজ্জা ও চাপে বিষয়টি চাপা থাকলেও বর্তমানে শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

ভুক্তভোগী শিশুর ভাষ্য, একদিন মাদ্রাসার ক্লাস শেষে শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর বলেন তার বিছানা ঝাড়ু দিয়ে দিতে।শিক্ষার্থী রুমে ঢুকলে শিক্ষক তাকে মুখ চেপে ধরে এবং জোর করে ধর্ষণ করে। পরে কাউকে জানাতে মানা করলেন এবং ভয় দেখানো হয়।ঘটনাস্থলে অন্যকেউ উপস্থিত ছিলেন কিনা জানতে চাইলে, শিশুটি বলেন যে কেবল সাগর হুজুরই ছিল। সেসময় অন্যকেউ ছিলেন না।

শিশুটির মা সিলেটে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে থাকেন এবং গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন।বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪/৫ মাস আগে বাবার সঙ্গে(শিশুটির নানা) ঝগড়া করে মেয়েটিকে সিলেট তার নিকট নিয়ে যায়। বিগত এক/দেড় মাস পুর্বে আবার শিশুটিকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। কিন্তু হঠাৎ মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন চোখে পড়লে মা সোমা আক্তার সন্দেহ করেন। পরে তিনি মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি মাদরাসা শিক্ষক সাগরের কথা জানায়।

পরবর্তীতে মদন উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে নিশ্চিত হওয়া যায় শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্তা।

সাত মাস পরে কেন ঘাটনাটি প্রকাশ করা হলো জানতে চাইলে শিশুটির মা বললেন যে তিনি এর আগে বুঝতে পারেন নাই। সাগরের বড়ভাই মামুনকে আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামুনকে বিষয়টি জানিয়ে বিচার চাইলে তিনি তাকে বকাবকি করেন ও হুমকি দমকি দেন তাই তাকে আসামি করা হয়েছে।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর মা ও নানা ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে অভিযোগের পর থেকেই মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ও তার স্ত্রী, যিনি ফাতেমাতুজহুরা মহিলা কওমী মাদ্রাসার পরিচালক, পলাতক রয়েছেন। গত প্রায় এক মাস ধরে মাদরাসাটিও বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তার বড়ভাই মামুন এর সাথে কথা বলে জানতে পারি বিষয়টি নিয়ে তাদের পারিবারিক সমিতিতে একটি সালিসি হয়েছে কিন্তু কোনরকম সমাধান হয়নি।তার কাছে সালিসে ৩ লক্ষ টাকা চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন যে সালিসে চাওয়া হয়নি কিন্তু পরে গোপনে চাওয়া হয়েছিল।

এবিষয়ে মাদরাসার একজন সহকারী শিক্ষক এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন যে, অভিযুক্তের সাথে তিনি ছোট থেকে বড় হয়েছেন এবং পড়াশোনা ও এখন কর্মজীবন। এযাবৎ তার বিষয়ে কোন খারাপ কিছু দেখেননি।তিনি আরও বলেন যে, সে নিজেও এই মাদ্রাসার একজন প্রতিষ্ঠাতা।ছাত্রীদের সাথে সাগর হুজুর কোন অপ্রীতিকর আচরণ করলে তিনি নিজে নিশ্চয়ই বাঁধা দিতেন।অনাকাঙ্ক্ষিত এমন কোন আচরণ তাদের চোখে পরেনি।

এদিকে অভিযুক্ত আমানউল্লাহ সাগর ফেইসবুকে একটি পোস্ট করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করে প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তির দাবি জানান

এবিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


More News Of This Category

You cannot copy content of this page