ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে সাজেদা ফাউন্ডেশন এনজিও চান্দুরা শাখার ম্যানেজারের বিরুদ্ধে সদস্য হয়রানী, দুর্ব্যবহার ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে । এ বিষয়েে ৫ মে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । অভিযোগকারী উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী নুরজাহান বেগম জানান, গত এক বছর আগে উক্ত এনজিও প্রতিষ্ঠান সাজেদা ফাউন্ডেশন থেকে ২০ হাজার টাকা ঋন গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়। কিস্তি পরিশোধের পর আমার সঞ্চিত ৯ হাজার ৫শ টাকা অফিসে পাওনা হয়। বিগত তিন মাস যাবত শত চেষ্টা করেও আমার পাওনা টাকা ফেরত পাইনি। তাদের কাছে টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানায় করেন। এমনকি জিম্মাদার না হয়েও অন্য সদস্যের আটককৃত টাকা সঞ্চিত টাকা থেকে কেটে নেয়ার হুমকি দেন। অভিযোগসূত্রে জানা যায় ৫ মে মঙ্গলবার বিকাল ৪ টার সময় সাজেদা ফাউন্ডেশনের চান্দুরা শাখার অফিসে সঞ্চয়কৃত টাকা চাইতে গেলে শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ মনিরুজ্জামান এর সামনে কয়েকজন কর্মকর্তা ভুক্তভোগীকে হাত উঠানোর মত মানহানিকর আচরণ করেন।

সরে জমিনে জানা যায় বিজয়নগরে রক্তচোষা কিছু এনজিও ঋনের ফাঁদে অনেকেই বাড়ি ঘর, জমি জমা , গরু বাচুর এমনকি হাড়ি পাতিল বিক্রি করে এলাকা ছেড়েছেন। অনেকে দোকান বন্ধ করে অন্যত্র চলে গেছেন । পরিবারের স্বামী বিচ্ছেদের মত ঘটনাও ঘটেছে। অনেক এনজিও সদস্যরা তাদের কিস্তি আদায় করতে রাত দুপুরে এমনকি রাতে মশার কয়েল জ্বালিয়ে বসে থাকেন। কিস্তি না দিতে পারাই পরিবারের সদস্যরা আত্বগোপন করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সদস্য টাকা পাবে সত্য আমি নতুন আসছি, আগের ম্যানেজার কি করেছে জানিনা। অচিরেই তার টাকা দিয়ে দিব এবং বই হারিয়ে যাওয়াই দেরি হচ্ছে ।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা এনজিও কমিটির আহবায়ক মোঃ নছরুল্লাহ ভূঁইয়া জানান, বিষয়টা দুঃখজনক সম্পৃক্তদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিজননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সকিনা আক্তার জানান, সাজেদা ফাউন্ডেশন এর বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির একটা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।